‘অপরাজিতা’ স্বত্বাধিকারীর দুঃখ প্রকাশ দোষ স্বীকারের শামিল: বিএসএমএমইউ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: নকল মাস্ক সরবরাহ করা নিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিসে জবাবে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের সত্ত্বাধিকারী শারমিন জাহানের দুঃখ প্রকাশকে দোষ স্বীকারের শামিল বলে উল্লেখ করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোজাফফর আহমেদের দায়ের করা মামলার এজাহারে এ কথা বলা হয়েছে।
এতে অপরাজিতার সত্ত্বাধিকারী শারমিন জাহানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে আরও বলা হয়, অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের দাখিলকৃত নমুনা মাস্ক তুলনামূলকভাবে ভালো উল্লেখ করায় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের সত্ত্বাধিকারী শারমিন জাহানকে মাস্ক সরবরাহের জন্য একটি কার্যাদেশ দেয় সরকার অনুমোদিত ডাইসিন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। এরপর মোট ৪টি তারিখে এবং ৪টি লটে যথাক্রমে ১৩০০, ৪৬০, ১০০০ ও ৭০০ পিস মাস্ক সরবরাহ করে। প্রথম ও দ্বিতীয় লটে প্রদেয় মোট ১৭৬০টি মাস্কে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়নি। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ লটে প্রদেয় ১০০০ ও ৭০০ পিস মাস্কে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। ওই মাস্কের বন্ধনি ফিতা ছিড়ে গেছে, মাস্কের ছাপানো লেখায় ত্রুটিপূর্ণ ইংরেজি লেখা পাওয়া গেছে। এছাড়াও আরো বিভিন্ন ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে মাস্কের মান নিম্নমানের প্রমাণিত হয়।
এতে কোভিড ১৯ সম্মুখ যোদ্ধাদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে বিধায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের সত্ত্বাধিকারী শারমিন জাহানকে গত ১৮ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান করেছে। জবাবে শারমিন জাহান দুঃখ প্রকাশ করেছেন, যা দোষ স্বীকারেরই শামিল। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া জানিয়েছেন, কারণ দর্শানো নোটিসে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে যা বলা হয়েছে তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। করোনা মাহামারীতে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরণের আপস নয়। এই ঘৃণ্য কাজের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থাসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। মামলা দায়ের ছাড়াও ইতোমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার সাথে সাথেই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে বিএসএমএমইউর পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. জুলফিকার আহমেদ আমিন জানিয়েছেন, মোট ৪টি লটে ৩৪৬০টি মাস্ক গ্রহণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ৯৫৯টি মাস্ক ফেরৎ দেওয়া হয়েছে। ফলে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল এর কাছ থেকে গ্রহণ করা মাস্কের সংখ্যা ২,৫০১টি। ৭৩০ টাকা হিসেবে এর আর্থিক মূল্য ১৮ লাখ ২৫ হাজার ৭৩০ টাকা।